দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি খাত শক্তিশালী করতে বন্ধ ও সংকটে থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও সচল করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এ স্কিমের আওতায় সম্পূর্ণ বন্ধ এবং পুনরায় চালুর সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং আংশিক সচল হলেও পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ প্রদানে প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানা ভাড়া বা অধিগ্রহণ করে চালু করা উদ্যোগও অগ্রাধিকার পাবে।
ঋণ প্রদানের আগে ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, বন্ধ হওয়ার কারণ এবং ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুযোগ থাকবে।
সিআইবি-তে খেলাপি, অর্থপাচার বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না। ঋণের অর্থ বেতন-ভাতা, কাঁচামাল, ইউটিলিটি বিল ও উৎপাদন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে; তবে আগের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না।
একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা নবায়নযোগ্য। স্কিমটি তিন বছর মেয়াদে আবর্তনযোগ্যভাবে পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অনিয়ম, জালিয়াতি বা অর্থের অপব্যবহার ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হবে।

